ভারত থেকে ব্যবসায়ীদের আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আপাতত দেশে গমের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে রাশিয়া–ইউক্রেন সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলায় গমের মজুত বাড়ানো উচিত।
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, গবেষণা পরিচালক, সিপিডি।
দেশের ব্যবসায়ীরা গম আমদানির জন্য ভারতের দিকে কতটুকু ঝুঁকেছেন, তা গত তিন মাসের উদাহরণেই বুঝা যায়। যেমন ২০২০–২১ অর্থবছরের ডিসেম্বর–ফেব্রুয়ারি তিন মাসে গম আমদানি হয়েছিল ১৭ লাখ ৭৫ হাজার টন। এই গমের ৩৩ শতাংশ বা ছয় লাখ টন এসেছে রাশিয়া থেকে। এর বাইরে ভারত থেকে ২৯ শতাংশ ও কানাডা থেকে ১৪ শতাংশ আমদানি হয়। আর চলতি ২০২১–২২ অর্থবছরের একই সময়ে গম আমদানি হয়েছে ১৭ লাখ টন। এই গমের ১২ লাখ ৩১ হাজার টন বা ৭২ শতাংশই এসেছে ভারত থেকে। রাশিয়া–ইউক্রেন থেকে আমদানি হয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ। আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা থেকে আমদানি হয় ৫ লাখ ৭২ হাজার টন বা ১৭ শতাংশ গম।
খাদ্যশস্য আমদানিতে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, তুলনামূলক দর বিবেচনা করে ব্যবসায়ীরা আমদানি করেন। রাশিয়া–ইউক্রেন থেকে সরে এসে ভারতের দিকে আমদানিতে ঝুঁকে পড়ার কারণ এটিই। ভারতের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আগের তুলনায় গম আমদানি বেড়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে চীন ও মিসরের মতো দেশগুলো নিজেদের খাদ্যপণ্যের মজুত গড়ে তুলছে। বাংলাদেশকেও এখন গমের মজুত বাড়াতে বেসরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি সরকারিভাবেও আমদানি বাড়ানো উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২০–২১ বিপণনবর্ষে বিশ্বের মোট গম রপ্তানির ২৮ শতাংশ করেছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। ওই বছরে বাংলাদেশের মোট গম আমদানির ৪১ শতাংশ হয়েছে এই দুই দেশ থেকে।
আমদানি তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি মাসে ভারত থেকে গম আমদানিতে প্রতি কেজির দাম পড়েছে ২৭ টাকা। বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় এখন ভারত থেকে আমদানিতে প্রতি কেজি দাম পড়ছে ৩১–৩২ টাকা। আবার একই মানের গম বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে আমদানিতে খরচ পড়ছে ৩৬ টাকার মতো। অবশ্য বিশ্ববাজার থেকে উচ্চমানের প্রোটিনযুক্ত গম আমদানিতে প্রতি কেজির খরচ পড়বে ৪৬ টাকা।
দেশে বছরে গম উৎপাদন হয় ১০–১২ লাখ টন। এর বাইরে বছরে কমবেশি ৭০ লাখ টন গম আমদানি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গম আমদানিতে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ। চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ প্রায় ৭৫ লাখ টন গম আমদানি করতে পারে বলে আভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ভারত থেকে ব্যবসায়ীদের আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আপাতত দেশে গমের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে রাশিয়া–ইউক্রেন সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলায় গমের মজুত বাড়ানো উচিত। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি বাড়ানো দরকার। কারণ, রাশিয়া–ইউক্রেন গমের অন্যতম উৎস। অন্যান্য দেশও এখন বিকল্প উৎস থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করছে। তাতে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।