‘মিলন আক্তার’ নামের একজন অতি সাধারণ মা

এক মেয়ে বিদেশে থাকে পড়াশুনার জন্য। বাকি দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। তাই কুমিল্লা রেইসকোর্সের নিজ বাসায় একাই থাকতেন ‘মিলন আক্তার’ নামের একজন অতি সাধারণ মা।
কিন্তু ছবিতে যাদেরকে দেখতে পাচ্ছেন তারা কাঁদছে কেনো জানেন? শুধুমাত্র সেই মায়ের বিচারের জন্য।
হ্যাঁ, তারাই সেই দুই বোন। যাদের বিয়ে হয়েছিল। আর অন্যজনের নাম নুসরাত আলো। যিনি বর্তমানে ইংল্যান্ডে আছেন। কুমিল্লা ফয়জুন্নেসা স্কুল ও ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
ঘটনাটা গত ২০২৫ সালের ১৬ই অক্টোবরের।
দূরে থাকার দরুণ হঠাৎ একদিন মায়ের ফোন রিসিভ হচ্ছে না দেখে তারা ৩ বোন বেশ ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার পেরিয়ে শুক্রবার হয়ে গেলেও যখন মায়ের ফোনে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন আলো আপুর বড় বোন খোঁজ নিতে যান সেই বাসায়।
বাসার সামনে গিয়ে তিনি থমকে দাঁড়ান এই দেখে যে দরজাটা বাইরে থেকে তালা দেওয়া ছিল। তবুও তিনি স্বাভাবিকভাবেই ভেবেছিলেন, মা হয়তো ছাদে গেছেন। একটু পর ঠিকই এসে যাবেন।
তাই তিনি অপেক্ষা করার জন্য দরজা খুলে ঘরে ঢুকেন। কিন্তু যাওয়ার পরপরই চারপাশে কেমন যেনো অস্বাভাবিকতা চোখে পড়তে শুরু করল। বিছানার চাদর এলোমেলো, আলমারিটা ভাঙা, ঘরের জিনিসপত্র এখানে সেখানে ছিটকে পড়ে আছে।
বুকের ভেতরটা তখন ভয়ে কেঁপে উঠেছিল উনার। প্রথমে মাথায় এলো, হয়তো অপহরণকারী এসে মাকে তুলে নিয়ে গেছে। কিন্তু আসল নির্মমতা লুকিয়ে ছিল তার ঠিক পরের মুহূর্তেই।
মধ্যরুমের লাইটটা জ্বালাতেই চোখ আটকে গেল খাটের দিকে। তোষকটা কেমন যেন অদ্ভুতভাবে মেঝেতে ঝুলে আছে। বুক ধড়ফড়ানি সামলে তোষকটা আলগা করতেই যেন পুরো পৃথিবীটা থমকে গেল তার।
ভেতর থেকে বের হয়ে এলো মায়ের নিথর দেহ। হ্যাঁ মায়ের লা-শ।
ভাবতে পারছেন?
যে মাকে বাড়িতে একা রেখে আমরা আমাদের শহর-দেশ ছেড়ে যাই। হঠাৎ যদি একদিন ফোন আসে আপনারই ঘরের খাটের নিচে আপনার মায়ের লা-শ পাওয়া গেছে। তখন কেমন লাগতে পারে?
সেদিন ঘটনার পরপরই তৎক্ষনাৎ পুলিশ সেখানে উপস্থিত হলো। এবং তারা তৎক্ষণাৎ একজনকে গ্রেফতারও করলো। সেদিন সান্ত্বনা দিয়ে প্রশাসন তাদেরকে বলেছিল,
“আপনার মা মানে আমাদের মা, আমরা এটার সর্বোচ্চ বিচার করবো।”
অথচ তারপর কি হলো জানেন? মাত্র একটা মাস পার হতেই তাদের সুর বদলে গেল।
“আমরা দেখছি, সময় লাগবে, পরে আসেন” করতে করতে আজ দীর্ঘ ৮টা মাস কাটিয়ে দিলো তারা।
সবচেয়ে নির্মম আর অদ্ভুত ব্যাপার কী জানেন? এই পুরো নৃশংস ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রশাসনের হাতে আছে। অপরাধীদের স্পষ্ট শনাক্তও করা যাচ্ছে। কিন্তু বিচারের চাকা এক ইঞ্চিও সামনে এগোচ্ছে না।
কেন? কারণ তাদের ৩ বোনের কোনো ভাই নেই, কোনো রাজনৈতিক খুঁটির জোর নেই। ব্যস! এইটুকুই।
একটু আগে নুসরাত আলো আপু আমাকে ফোন দিয়ে ভাই বলে সম্বোধন করলেন। অসহায় কন্ঠে বললেন “একটু কি লিখবা আমার মাকে নিয়ে ভাই?”
অপারগ এই আমি আপুকে লিখার আশ্বাস তো দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু বিচারের আশ্বাসটা আর দেয়ার সাহস হয় নি!
তাই আমি, দেশের একজন সন্তান হিসেবে, আমার মা মিলন আক্তার হত্যার বিচার চাই। এবং আপনারাও যারা পারবেন, পোস্টটা কপি করে আপনাদের নিজ নিজ ওয়ালে দেবেন।
নুসরাত আলো আপু কুমিল্লা ফয়জুন্নেসা স্কুল ব্যাচ-১৭ ও ভিক্টোরিয়া কলেজ ব্যাচ-১৯ এর প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
আমার মায়ের বিচার চাই রাষ্ট্র, বিচার চাই।
Justice for Milon Akter

Comments are closed.