২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পর কেটে গিয়েছে ঠিক দু’টি বছর। এটা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি। দু’বছর ধরে ‘ইন্দো ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন’-এর তত্ত্বাবধানে এখানে মসজিদ তৈরির কাজ চলছে বলে শোনা গেলেও নির্মীয়মাণ মসজিদের কোন অস্তিত্ব নেই। যতদূর দখা যায়, চারদিকে শুধু ধু-ধু ফাঁকা জমি। ছাগল চরছে। আরও অন্তত গোটাচারেক বোর্ড সেই ‘ইন্দো ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন’-এর। এ ছাড়া আর কোথাও কোনও প্রাণের নড়াচড়া নেই।
কিন্তু ওই ছবিটুকুই সার। গেটহীন চত্বরে ঢুকলেই দেখা যাবে, দুই পাশে গোটাকয়েক ছাগল বাঁধা আছে। ঘাসের মাঠ পেরিয়ে গেলে দেখতে পাওয়া যাবে কিছুটা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হয়েছে। আগে এই জমি ছিল কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে। তারাই বীজতলা বানিয়ে চাষ করত। চারদিকে তাকালে এই ধুধু মাঠ, বীজতলা, ছোট আমবাগান দেখতে দেখতে প্রশ্ন জাগে, মসজিদ কই? বাবরির বিকল্প মসজিদ? যে মসজিদ নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি।
অল ইন্ডিয়া বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কোঅর্ডিনেশন কমিটির নেতা ও আইনজীবী জাফরইয়াব জিলানি, এআইএমআইএম নেতা ও সাংসদ ওয়েইসি আগেই বলেছেন, তারা সরকারের দেয়া জমিতে মসজিদ করার পক্ষে নন। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড এই জমিতে মসজিদ বানাতে রাজি হয়েছে। ইন্দো ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন তৈরি হয়েছে। তারাই মসজিদ, কলেজ, হাসপাতাল করবে। পুরো জমির বিভিন্ন পাশে গোটা চারেক বোর্ড লাগিয়েই আপাতত কাজ সেরেছে তারা। এই ধন্নিপুর ও তার আশপাশের গ্রাম হলো সুন্নিপ্রধান।
ইসলাম যখন এই কথা বলছেন, তখন সাইকেল থামিয়ে যাদবজি তাকে সমর্থন করে বললেন, ‘আমাদের এখানে হিন্দু-মুসলমানে কোনো ঝগড়া নেই। আমরাও কলেজ-হাসপাতাল চাই।’ কিন্তু কবে? আক্ষেপ করে ইসলাম বলছিলেন, ‘মনে হয় না, জীবদ্দশায় মসজিদ দেখে যেতে পারব।’ সূত্র: ডয়চে ভেলে।
