স্পুতনিক আরও বলেছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দনবাসে আট বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধ করার লক্ষ্যে অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছে, রাশিয়ার লক্ষ্য ইউক্রেনকে নিরস্ত্রীকরণ এবং নাৎসি মুক্ত করা।
স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলের লিভিভ শহরের উপকণ্ঠে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শহরটির গভর্নর ম্যাক্সিম কোজিটস্কি গতকাল বলেন, বেলা ২টা ৪৫ মিনিট ও ৫টার কিছু আগে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা পরে। পরে আরও তিনটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। প্রথম হামলাটি হয়েছে একটি তেলের গুদামে। ওই হামলায় পাঁচজন আহত হয়েছেন।
এর আগে রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ইউক্রনের রাজধানী কিয়েভ থেকে ৯৬ মাইল দূরে ঝিতোমির শহরে সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে কৃষ্ণসাগর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এ আক্রমণে ইউক্রেনের সেনাদের অস্ত্র ও যুদ্ধ সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে।
রাশিয়ার শীর্ষ সামরিক কমান্ডার সের্গেই রুস্কয় বুদানভ বলেছেন, ইউক্রেনে চলমান অভিযানের প্রথম ধাপ শেষ করেছে রুশ সশস্ত্র বাহিনী। তাঁর দাবি, ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের প্রথম ধাপের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছে মস্কো। এর মধ্য দিয়ে রাশিয়া দনবাস অঞ্চলে পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে কাজ করার সুযোগ পাবে।
যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, রুশ সেনারা বিভিন্ন শহরে বোমা হামলা চালিয়ে যাবে।
ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলের স্লাভুতিচ শহর দখলে নিয়েছেন রুশ সেনারা। শহরটিতে নিষ্ক্রিয় চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীরা বসবাস করেন। গতকাল শনিবার বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামে এ তথ্য জানিয়েছেন কিয়েভের আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দ্র পাভলিয়াক।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, স্লাভুতিচ শহরের দখল হারানোর কথা স্বীকার করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি গভর্নর পাভলিয়াক। এ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মস্কোর পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য আসেনি।
শুক্রবার ইউক্রেনের আঞ্চলিক গভর্নর বলেছেন, রাশিয়ান বাহিনী দেশটির উত্তরে চেরনিহিভ শহরটিকে বিচ্ছিন্ন করেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত শুক্রবার আবার রাশিয়ার কাছে যুদ্ধ বন্ধের জন্য আলোচনার আবেদন করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, তার দেশ শান্তির স্বার্থে কোন অঞ্চল ছেড়ে দিতে রাজি হবে না।