হলুদের মঞ্চে থাকার কথা যে কনের, তাঁকে শোয়ানো হলো কবরে

বৃহস্পতিবার রাতে জাহিদুল কাকলিদের বসতঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে আহত করেন। কাকলির চিৎকারে বাড়ির মানুষ এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন জাহিদুলকে আটক করে পিটুনি দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দুজনকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। তাঁদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বৃহস্পতিবার রাতে দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কাকলি আক্তারের অবস্থার আরও অবনতি হলে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিউতে স্থানান্তর করা হয় তাঁকে। রোববার ভোরে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। রোববার রাতে কাকলির লাশ পৌঁছায় গ্রামের বাড়িতে।

কাকলী আক্তারের মৃত্যুতে বাড়িতে চলছে মাতম

কাকলী আক্তারের মৃত্যুতে বাড়িতে চলছে মাতম
ছবি:গ্রামের আলো

কাকলির ভাই ফারুক মাদবর বলেন, ‘আমাদের একটাই বোন। অনেক আনন্দ আর ধুমধামের মধ্যে বিয়ের আয়োজন করছিলাম। জাহিদুল সবকিছু তছনছ করে দিয়েছে। মেহেদি আর হলুদে বোনকে রাঙিয়ে তুলতাম। অথচ আজ বোনের নিথর দেহ কবরে শুইয়ে দিয়েছি।’

কাকলির মা ফরিদা বেগম বলেন, ‘কাকলিকে বিয়ে দিতে পারলাম না, নিরাপত্তা দিতে পারলাম না, বাঁচাতে পারলাম না। ঘাতকের হিংসা ওকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। ওর বাবার কাছে আমি কী জবাব দেব?’

কাকলির মামা ইব্রাহীম হোসেন বলেন, এভাবে একটি প্রিয়মুখ হারিয়ে যাবে, কেউ ভাবতে পারেনি। মুহূর্তেই বিয়েবাড়ির আনন্দ বিষাদে পরিণত হলো। হামলার পর বিয়ের প্রস্তুতি বন্ধ করে কাকলিকে বাঁচাতে প্রাণপণে ছুটেছেন তাঁরা, কিন্তু পারেননি। বখাটের থাবায় যেন আর কোনো কাকলিকে এভাবে বিদায় নিতে না হয়, সে জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে রাষ্ট্রের কাছে দাবি জানান তিনি।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন বলেন, বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাটিতে তাঁরা হতবাক। অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম ঢাকায় চিকিৎসাধীন। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

Comments are closed.