
উত্তেজনা, নাটক, রূপকথা শেষে ইউরো ও কোপা আমেরিকা এখন সেমিফাইনালের মঞ্চে। ২৫ বছর পর প্রথমবার শেষ চারে ইংল্যান্ড। ইউক্রেনকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তারা। বড় কোনো টুর্নামেন্ট এলেই ইংলিশ সমর্থকরা স্বপ্ন দেখেন ‘ফুটবলের ঘরে ফেরার’। টানা পাঁচ ম্যাচ গোল হজম না করে ইউরোর সেমিফাইনালে পৌঁছানোয় স্বপ্নের ফানুসটা এবারও উড়ছে অনেক উঁচুতে। সেমিফাইনালে গ্যারেথ সাউথগেটের দলের বাধা ডেনমার্ক। রূপকথার সাফল্যে চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২৯ বছর পর আবার শেষ চারে তারা। ৭ জুলাই ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ডেনমার্ক, যারা টুর্নামেন্টটা খেলছে ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের জন্য কিছু একটা করার তাগিদে। ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চলে গিয়েছিলেন এরিকসেন। শুরুতে ম্যাচটি খেলতে না চাওয়া ড্যানিশরাই এরিকসেন-প্রেরণায় স্বপ্ন দেখছে ফাইনালের।
অন্য সেমিফাইনালে ৬ জুলাই ওয়েম্বলিতে স্পেনের মুখোমুখি বদলে যাওয়া ইতালি। রক্ষণের খোলসে আটকে থাকাই ঐতিহ্য ছিল ইতালির। সেই ‘কাতানেচ্চিও’ ধারা বদলে রবার্তো মানচিনি খেলাচ্ছেন আগ্রাসী ফুটবল। এ জন্যই নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ টানা ৩২ ম্যাচ অপরাজিত তারা, জিতেছেও টানা ১৩ ম্যাচ। বড় নামের তারকা না থাকলেও দল হয়ে খেলতে পারাটা বড় সম্পদ ইতালির। স্পেন আবার প্রতিপক্ষকে পরাচ্ছে গোলের মালা। গ্রুপ পর্বে স্লোভাকিয়ার পর নক আউটে ক্রোয়েশিয়ার জালেও বল পাঠিয়েছিল পাঁচবার করে। ইউরোর ইতিহাসে এমন নজির নেই কারো। কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকার নাটকে সুইজারল্যান্ডকে বিদায় করা স্পেন তাই দেখছে রেকর্ড চতুর্থ ইউরো শিরোপার স্বপ্ন।
বৈশ্বিক আসরে নিজেদের সেরা প্রমাণের তাড়নায় লাতিন দলগুলো ধ্রুপদি ফুটবলের ঐতিহ্যের সঙ্গে আপস করে অনেক সময়। কিন্তু নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে নান্দনিকতার গলা টিপে ধরার মতো আগ্রাসী হয় না। প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও তাই থাকে শিল্পসুধা। লিওনেল মেসি আর নেইমাররা এমন মন-মাতানো ফুটবলে এবার সেমিফাইনালে। আজ প্রথম সেমিফাইনালে ব্রাজিল মুখোমুখি পেরুর। আগামীকাল অন্য সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিদ্বন্দ্বী কলম্বিয়া। নিজেদের ম্যাচ জিতলেই ১০ জুলাই মারাকানার ফাইনালে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ‘সুপারক্লাসিকো’।
সৌন্দর্যের রং ছড়ানো উৎসবের মধ্যে সমান তালেই লড়াই করেছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা। ভেনিজুয়েলাকে ৩-০ আর পেরুকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে শুরু ব্রাজিলের। কলম্বিয়াকে ২-১ গোলে হারানোর পর অবশ্য ছন্দঃপতন। সেরা তারকাদের বিশ্রাম দেওয়ায় গ্রুপের শেষ ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করে ইকুয়েডরের বিপক্ষে। এরপর ১০ জন নিয়ে চিলিকে ১-০ গোলে হারিয়ে পায় সেমিফাইনালের টিকিট। টুর্নামেন্টজুড়ে দ্যুতি ছড়ানো নেইমার ত্রাতা হয়েই ছিলেন ব্রাজিলের। দুই গোলের পাশাপাশি তাঁর অ্যাসিস্ট তিনটি। তাঁকে নিয়ে কোচ তিতের মুগ্ধতা, ‘সৃষ্টিশীলতায় এখন আরো পরিণত নেইমার।’
আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে পৌঁছেছে লিওনেল মেসির কাঁধে চড়ে। প্রথম ম্যাচে চিলির সঙ্গে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০, প্যারাগুয়ের সঙ্গে ১-০ আর বলিভিয়াকে ৪-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপসেরা তারা। মেসিময় ম্যাচে ইকুয়েডরকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে পেয়েছে শেষ চারের টিকিট। রংধনুর মতো বাঁকানো ফ্রিকিকে এক গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করেছিলেন দুটি। এবারের কোপায় সর্বোচ্চ চার গোলও তাঁর। আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা কিংবা নক আউটে ২০ গোলে অবদানের (করেছেন ৫টি, অ্যাসিস্ট ১৫টি) কীর্তিও মেসির। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নটা রাঙিয়ে চলেছেন এই কিংবদন্তি। ১০ মে মারাকানার ফাইনালে শিরোপাটা হাতে তুলতে মুখিয়ে তিনি। আর্জেন্টাইন সতীর্থরা পারবেন তো মেসির শিরোপাখরা কাটাতে?