প্রথম পাতা

রাসূল (সা.) এর আদর্শ প্রতিষ্ঠা ছাড়া শান্তি আসবে না

পীর সাহেব

facebook sharing button
messenger sharing button
twitter sharing button
whatsapp sharing button
email sharing button
sharethis sharing button

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম মানবতার ধর্ম। ইসলামের নামে বিশৃঙ্খলা করার সুযোগ এখানে নেই। দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্যে চক্রান্ত চলছে। পূজামন্ডপে মন্দিরে হামলা, হিন্দুদের বাড়ী ঘরে হামলায় ইসলামপন্থিরা জড়িত তা প্রমাণ করতে পারেনি। তারপরও সেইসূত্র ধরে ত্রিপুরা রাজ্যে মুসলমানদের বাড়ী ঘর, দোকানপাঠ ও মসজিদে হামলা এবং মুসলমানদের উপর জুলুম নির্যাতন করা হচ্ছে। ওই মহলটি দেশে ইসলামী রাজনীতি বন্ধের চক্রান্ত করছে। রাসূল (সা.) এর আগমনের পূর্বে বিশ্বব্যাপী এক মহাপরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। সমাজ ও রাষ্ট্রের সকলক্ষেত্রে রাসূল (সা.) এর আদর্শ প্রতিষ্ঠা ছাড়া শান্তি আসবে না।

আজ বিকেলে পটুয়াখালী সদর হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত ইসলামী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে লক্ষ জনতার ঢল নামে। প্রশাসন অনুমতি নিয়ে টালবাহানা করে শেষ মুহুর্তে সম্মেলনের অনুমতি দেয়। সম্মেলনে পটুয়াখালী শহরের ওলামায়ে কেরাম এবং মসজিদের ইমামগণ উপস্থিত ছিলেন। ইসলামী আন্দোলনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়েছে।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন আমরা মদীনার সনদে রাষ্ট্র চালাবো। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তিনি তা ভুলে গেছেন। মদিনা সনদে বিচার ফায়সালা এবং আইন ছিল আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলের। মানুষের মনগড়া আইন মদিনা সনদ স্বীকৃতি দেয় না। পীর সাহেব চরমোনাই মানুষের নাগরিক ও ভোটাধিকার সহ সকল অধিকার ফিরে পেতে হলে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে ফিরে আসতে হবে। মুরাদনগরে কর্মশালা : ইসলামী আন্দোলন বাংলদেশ-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেছেন, সন্ত্রাস, দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সকলস্তরের দায়িত্বশীলদেরকে একযোগে কাজ করতে হবে। নিজেদের যোগত্যা ও মেধার স্বাক্ষর রাখতে হবে।

দিনব্যাপী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুমিল্লা উত্তর জেলার মুরাদনগর উপজেলা শাখার উদ্যোগে সংযোগি সংগঠন ও ইউনিয়ন দায়িত্বশীল কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতী দেলাওয়ার হোসাইন সাকী। মুরাদনগরস্থ একটি মিলনায়তনে উপজেলা সভাপতি এম.এম. মফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারী মুহাম্মদ হোসাইন মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ তৈয়্যব, সেক্রেটারী মাওলানা নূর হোসাইন, উপজেলা মুজাহিদ কমিটির ছদর মুহাম্মদ আব্দুল আলিম

অপার ক্ষমার ঘোষণা এর পরও কি গোনাহ রয়ে যাবে

messenger sharing button

twitter sharing button 1

whatsapp sharing button
email sharing button
sharethis sharing button

আল্লাহ তা‘আলা গাফফার-মহা ক্ষমাশীল; তিনি ক্ষমা করতেই ভালোবাসেন। তাই তো ক্ষমার জন্য তিনি রেখেছেন- বিভিন্ন উপলক্ষ; এই উপলক্ষে সেই উপলক্ষে তিনি বান্দাকে ক্ষমা করেন। পৃথিবী-ভর্তি গোনাহও তিনি ক্ষমা করে দেন। প্রয়োজন শুধু ফিরে আসা। তওবার মাধ্যমে তাঁর ক্ষমার দুয়ারে ধরনা দেয়া। ব্যাস, বান্দার ক্ষমা চাইতে দেরি, ক্ষমা করতে দেরি নেই। আর শুধু ক্ষমা নয়, ক্ষমা করে তিনি টেনে নেন রহমতের ছায়ায়; এমনকি কখনো পাপের সংখ্যা পরিবর্তন করে দেন পুণ্য দিয়ে।

বান্দাকে হতে হবে ‘তাওয়াব’-গোনাহ হয়ে গেলেই সাথে সাথে তওবা করতে হবে। তওবা করতে হবে দিল থেকে, অনুশোচনার সাথে। তাহলেই লাভ করা যাবে ‘গাফফার’-এর ক্ষমা। হাদীস শরীফে ইরশাদ : ‘আত তাওয়াবুনাল খাত্ত¡ায়িনা ও খায়রু খাত্ত¡াউন আদামা ইবনি কুল্লি’। প্রতিটি বনী আদম ‘খাত্তা’-বারংবার পাপকারী। তবে ‘খাইরুল খাত্তাঈন’ অর্থাৎ পাপকারীদের মধ্যে উত্তম হলো তারা, যারা ‘তাওয়াবূন’ অর্থাৎ যারা বেশি বেশি তওবা করে; গোনাহ হলেই তওবা করে নেয়। (জামে তিরমিযী : ২৪৯৯)।

হাঁ, গোনাহ হলে তওবা করে নেয়াই তো মুমিনের গুণ। মুমিনের এ গুণের বর্ণনা এসেছে কোরআনে, এভাবে : এবং তারা সেই সকল লোক, যারা কখনো কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা (অন্য কোনোভাবে) নিজেদের প্রতি যুলুম করলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার ফলশ্রæতিতে নিজেদের গোনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া কেই বা আছে, যে গোনাহ ক্ষমা করতে পারে? আর তারা জেনেশুনে তাদের কৃতকর্মে অবিচল থাকে না। (সূরা আলে ইমরান : ১৩৫)।

এই আয়াতের এক আয়াত আগে আল্লাহ বান্দাকে মাগফিরাত ও জান্নাতের দিকে প্রতিযোগিতামূলক ধাবিত হওয়ার আহŸান জানিয়েছেন। এরপর (উপরের আয়াতে) বর্ণনা করেছেন- যারা তাঁর মাগফিরাত ও জান্নাত পাবে, তাদের গুণ ও বৈশিষ্ট্য।https://0537e9f64760d78bd4d7ba2830d94257.safeframe.googlesyndication.com/safeframe/1-0-38/html/container.html

এর পরও কি গোনাহের পাল্লা ভারি হবে : বান্দার নেকী-বদী লিপিবদ্ধ করা হয়; কিয়ামতের দিন বান্দার সামনে তা মেলে ধরা হবে। ছোট বড় সবকিছু লেখা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার দয়া দেখুন- নেক কাজের ইচ্ছা করলেই একটি নেকী লেখা হয় আর সে নেক কাজটি করলে দশ থেকে সাতশটি পর্যন্ত নেকী লেখা হয়; কখনো আল্লাহ আরো বাড়িয়ে দেন। পক্ষান্তরে কেউ যদি কোনো গোনাহের ইচ্ছা করে, তো যতক্ষণ গোনাহটি না করে ততক্ষণ কোনো গোনাহ লেখা হয় না। তারপর যদি গোনাহটি করে ফেলে তখন মাত্র একটি পাপ লেখা হয়।

কেউ কোনো সৎ কাজ করলে সে তার দশগুণ পাবে আর কেউ কোনো অসৎ কাজ করলে তাকে শুধু একটি পাপের শাস্তি দেয়া হবে। আর তাদের প্রতি কোনো যুলুম করা হবে না। (সূরা আনআম : ১৬০)। হাদীসে কুদসীতে হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন : বান্দা যখন কোনো নেক কাজের ইচ্ছা করে, উক্ত নেক কাজ না করলেও (এ ইচ্ছার কারণে) একটি নেকী লেখা হয়। যদি সে নেক কাজটি করে তাহলে দশ থেকে সাতশগুণ পর্যন্ত নেকী লেখা হয়। আর যখন কোনো গোনাহের ইচ্ছা করে, কিন্তু ওই পাপ কাজটি করে না; তখন (এ ইচ্ছার কারণে) কোনো গোনাহ লেখা হয় না। হাঁ, যদি ওই পাপ কাজটি করে বসে তখন মাত্র একটি পাপ লেখা হয়। (সহীহ মুসলিম : ১২৮)।

কোথায় এক আর কোথায় দশ থেকে সাতশ! এছাড়া গোনাহ মাফ হওয়ার বিভিন্ন প্রসঙ্গ তো রয়েছেই। এই আমল করলে পিছনের এক বছরের গোনাহ মাফ হয়। ওই আমল করলে গোনাহ মাফ। এর পরও কি নেকির পাল্লা ভারি হবে না!

নামাজের সময় সাধারণত একামত দেওয়া হয়। কিন্তু জুমআর নামাযের সময় আজান কেনো দেওয়া হয়?উত্তর : আসলে জুমার সময়েও ইকামত দেওয়া হয়। তবে, আপনি যা বোঝাতে চাচ্ছেন সেটি হলো, জুমার নামাজের জন্য দুইবার আজান দেওয়া হয় কেন। এটি সাহাবায়েপ্রশ্ন : নামাজের সময় সাধারণত একামত দেওয়া হয়। কিন্তু জুমআর নামাযের সময় আজান কেনো দেওয়া হয়?উত্তর : আসলে জুমার সময়েও ইকামত দেওয়া হয়। তবে, আপনি যা বোঝাতে চাচ্ছেন সেটি হলো, জুমার নামাজের জন্য দুইবার আজান দেওয়া হয় কেন। এটি সাহাবায়েপ্রশ্ন : মা তার নাতী বা নাতনীকে নিজের বুকের দুধ খাওয়াতে পারবে কি না?উত্তর : পারবে না। অপারগ অবস্থায় শিশুর প্রাণহানীর ভয় থাকলে তিনিও দুগ্ধদান করতে পারবেন। তবে, সাথে সাথে একজন দুধ মায়ের সন্ধান করতে হবে। যিনি এইপ্রশ্ন : পরিবার থেকে বিবাহের জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে, আমার জ্ঞান-বুদ্ধি কম থাকায় একটা পরিবার পরিচালনার মতো ঝুকি নিতে চাচ্ছি না। আবার আর্থিক অবস্থাও তেমন ভালো না। যদি বিবাহ না করি তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে গুনাহ হবে কি?উত্তর : যদি কেবল আর্থিক কারণে কিংবা সংসার পরিচালনার মতো জ্ঞান-বুদ্ধি না থাকার কারণে আপনি বিবাহের বিলম্ব করেন, কিংবা বিবাহ না করেন, তাহলে আপনার জন্যযদি কেউ তিন/চার রাকাত নামাজের প্রথম বৈঠকে ভুলে দুরুদ শরিফ পড়ে বা ইমামের সাথে সালাম ফিরিয়ে নেয় তাহলে কী করবে?উত্তর : তাহলে সেজদার পরপরই সে আবার সেজদা করে নিতে পারে। যদি এমন না করে, তাহলে পুনরায় নামাজ পড়বে। উত্তর দিয়েছেন : আল্লামা মুফতি উবায়দুরআমি ফরজ ৪ রাকাত নামাজে ২য় রাকাতে সুরা ফাতেহার পর যে সুরা পড়লাম, ৩য় রাকাতে সুরা ফাতেহার পর ভুলক্রমে ওই সুরা পড়ি এবং ৪ রাকাত নামাজের পর সহুসেজদা করে নামাজ শেষ করি, এতে কি আমার নামাজ শুদ্ধ হয়েছে?উত্তর : হয়েছে। কোনো ফরজ বা ওয়াজিব ভুলক্রমে স্থানান্তর হয়ে গেলে বা ভুলে ফাতিহা বা কোনো সূরা বাদ পড়লে সাহুু সেজদা দিলে নামাজ শুদ্ধ হয়েপ্রাবাসে বৈধ হয়ে গিয়ে পরে কাজ ঠিকমত না পেলে অথবা যেই কাজ পায় এতে তার না পুষলে, সে যদি অবৈধ হয়ে গিয়ে ইনকাম করে তাহলে ওই টাকা খাওয়া কি হালাল হবে?উত্তর : হবে। কারণ, কোনো নিয়ম যদি জুলুমের কারণ হয়, তাহলে সেটি অমান্য করা মজলুমের জন্য বৈধ হতে পারে। সুতরাং কাগজপত্রে অবৈধ সকল প্রবাসীর হালালফরয গোসল করতে গিয়ে সঠিক নিয়ম পালন করে গোসল করতেছি। গায়ে পানি ঢালা অবস্থায় আমার বায়ু বের হয়। এতে কি পুন:রায় প্রথম থেকে গোসলের নিয়ম পালন করতে হবে?উত্তর : প্রথম অজুর কাজগুলো করার পর থেকে গোসল শেষ হওয়া পর্যন্ত বায়ু ত্যাগে ফরজ গোসলের কোনো ক্ষতি হয় না। গোসল হওয়া শেষ হওয়া পর্যন্তআমি একটা কোম্পানির ম্যানেজার, কিছু সাপ্লায়ার আমাদের কে মাঝেমধ্যে গিফট দেয় এগুলো নেওয়া কি জায়েজ হবে?উত্তর : যদি এতে আপনার নিজের বানিজ্যিক দায় দায়িত্ব পালনে প্রভাব সৃষ্টি না হয়, মালিক বা গ্রাহকের হক নষ্ট না হয়, তাহলে জায়েজ হতে পারে।আমার বিয়ের দেনমোহর ধরা হয়েছে তিন লক্ষ টাকা, যেটা আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ছিলো। এখন এতো টাকা আমার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। স্ত্রী বললো যে ওই টাকা ওকে দিতে হবেনা। এখন আমার করণীয় কি। না দিলে কি আমার পাপ হবে?উত্তর : সম্মতি না থাকলে লিখিত টাকা দিতে হয় না। এক্ষেত্রে মোহরে মিছিল দিতে হয়। যেমন, আপনি বা আপনার গার্জিয়ান সম্মতি না দেওয়া সত্বেও জোরপ্রতিবন্ধীরা দাদা দাদি বা মুসলিম পারিবারিক সম্পত্তি পায় নাকি পায় না?উত্তর: সম্পত্তি না পাওয়ার কারণ মাত্র একটি। মালিককে খুন করা। এছাড়া প্রতিবন্ধী হওয়া, রোগী হওয়া, নাফরমান হওয়া ইত্যাদি কোনোটাই মানুষকে তার পূর্বসূরীদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিতযদি কোনো সমিতি এই শর্ত দিয়ে চালু করে যে, এর মেয়াদ হবে ৫ বছর। তবে যদি কেউ তার আগে চলে যেতে চায় তাহলে তার মূল টাকা ফেরত দেওয়া হবে। লাভ দেওয়া হবে না। তাহলে কী এই লাভের টাকা সমিতির জন্য হালাল হবে?উত্তর : এরকম শর্ত করা একজন বিনিয়োগকারী অংশীদারের ওপর জুলুম। তবে, যদি কেউ জেনেশুনে এমন শর্তে রাজী হয়, আর একে নিজের ওপর জুলুম মনে না

ব্রিটিশ এমপির বক্তব্যের জবাবে যা বললেন মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী ব্রিটিশ এমপির বক্তব্যের জবাবে যা বললেন মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী

ব্রিটিশ এমপি ব্ল্যাক ম্যান ও মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী (ডানে)

ব্রিটিশ এমপি ব্ল্যাক ম্যান ব্রিটেনের পার্লামেন্টে মঙ্গলবার বক্তব্য দিতে গিয়ে মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী সম্পর্কে বলেছেন, ‘তিনি বাংলাদেশে ঘৃণা ছড়িয়ে নিষিদ্ধ হয়ে দেশ ছেড়েছেন।’ এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন মিজানুর রহমান আজহারী। তার ভেরিফাইড ফেসবুক থেকে এই বক্তব্য হুবুহু তুলে ধরা হলো :

‘ইসলাম শান্তির ধর্ম। আমরা শান্তির বাণীবাহক’ইসলামের বাণী জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য। ইসলামের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত। বিশ্বনবী (সা.‬) সবার জন্য রহমত। পবিত্র কুরআন সবার জন্য উপদেশ। এটি একটি ইউনিভার্সাল ম্যাসেজ। এই ম্যাসেজ ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে যারা আত্মনিয়োগ করবেন— তাঁরাও ইউনিভার্সাল ইমেজ লালন করবেন। তাই ইসলামের এ শান্তির পয়গাম সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়াই আমাদের মিশন। আর এ পয়গামেই রয়েছে আপনার আমার আলোকস্নাত মুক্তি।

ইউকে পার্লামেন্টের হাউ অব কমন্স-এ গ্রেটার লন্ডনের নির্বাচনী এলাকা ‘হারো ইস্ট’ এর কনজার্ভেটিভ পার্টির এমপি ‘বব ব্ল্যাকম্যান’ আমাকে হেইট প্রিচার আখ্যা দিতে গিয়ে কিছু মিসলিডিং ইনফো শেয়ার করেছেন।

আমি সাধারণত আমাকে নিয়ে কটুক্তি কিংবা সমালোচনা- এসব বিষয়ে খুব একটা মনোযোগ দেই না। শুধুমাত্র গঠনমূলক সমালোচনা হলে সেটাকে ওয়েলকাম করি। কিন্তু তিনি তার বক্তব্যে কিছু অসত্য কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন- আমাকে বাংলাদেশে ব্যান করা হয়েছে এবং আমি নাকি দেশ থেকে পালিয়ে গেছি। আমি তার এই মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ সরকার আমাকে ব্যান করেছে তার কোন প্রমাণ কি তিনি হাজির করতে পারবেন? না, পারবেন না। সরকার তো শত শত পুলিশ দিয়ে আমার প্রোগ্রামকে সফল করেছে। সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা আমার বিভিন্ন প্রোগ্রামে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকেছেন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সবাই আমার প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। তাদের সকলের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

তাহলে, আমি ২০২০ সালের বাকী প্রোগ্রামগুলো স্থগিত করে মালয়েশিয়া চলে আসলাম কেন? সেটা আমি আগেও বলেছি। আর তা হলো- আমাকে নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত মাতামাতি, হইচই, প্রোগ্রামস্থলে ধারণ ক্ষমতার বাইরে উপস্থিতি, বেসামাল ক্রাউড এবং কিছু আল্লাহর বান্দার প্রতিহিংসাপরায়ণতা। এসব যখন ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছিল তখন কিছু শুভাকাঙ্ক্ষীদের পরামর্শে সকল প্রোগ্রাম স্থগিত করে পুনরায় পিএইচডি গবেষণার কাজে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে তথা মালয়েশিয়ায় সাময়িকভাবে ফিরে আসি।

বাংলাদেশ আমার দেশ। আমি এদেশের সন্তান। করোনার কারণে গত বছর দেশে যেতে পারিনি। ইতিমধ্যে আমি ফ্যাকাল্টিতে পিএইচডি থিসিস সাবমিট করেছি। পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন শেষে, শীঘ্রই আমি দেশে ফিরব ইনশাআল্লাহ।

২০১৩ সাল থেকেই আমি মালয়েশিয়াতে থাকি। তখন থেকেই নিয়মিত দেশে যাওয়া-আসা করি। তাই ২০২০ সালে হঠাৎ করে আমি মালয়েশিয়াতে পালিয়ে আসার কথাটা বড্ড বেমানান ও হাস্যকর। ব্রিটিশ এমপি ভালোভাবে পেপার ওয়ার্ক না করেই মন্তব্য করে ফেলেছেন। কেউ হয়তো উনার কান ভারী করেছেন আর উনি সেটাই বলে দিয়েছেন। এরকম উচ্চ পদ মর্যাদার অধিকারী কোন লোকের মুখে এমন অসত্য বক্তব্য কাম্য নয়।

সম্প্রতি লন্ডনে একটি কনফারেন্সে যোগ দিতে গিয়ে কাতারেই আমাকে থেমে যেতে হয়। ভিসা দিয়েও যুক্তরাজ্যের হোম অফিস আমার যুক্তরাজ্য প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ফলে কাতারে আমাকে সাময়িক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই উদ্বেগ উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন। আপনাদের সবাইকে শুকরিয়া জানাচ্ছি। আল্লাহর মেহেরবাণীতে আমি ভালো আছি, নিরাপদে আছি।

আমরা হোম অফিসের এই অনাকাঙ্ক্ষীত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জুডিশিয়াল রিভিউর জন্য যুক্তরাজ্যের হাইকোর্টে আপিল করেছি। শীঘ্রই শুনানির দিন তারিখ ধার্য করা হবে। আমরা আমাদের সাধ্যমত আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।

ইউকের ভাইয়েরা একটি পিটিশন তৈরি করেছেন। দয়া করে সবাই পিটিশনে স্বাক্ষর করুন। এটা রিভিউতে আমাদের পক্ষে বেশ কাজে দিবে। সত্যের একটা আলাদা শক্তি আছে। সে শক্তিটা আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজে লাগাতে চাই।

৬ মাস চাপ দিতে পারবেন না ইভ্যালির গ্রাহকরা

 

৬ মাস চাপ দিতে পারবেন না ইভ্যালির গ্রাহকরা

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির গ্রাহকরা আগামী ৬ মাস কোর্টের নিয়োগ করা বোর্ডের কাছে অর্থ ফেরত দিতে চাপ দিতে পারবেন না বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে তারা সমস্যা সমাধানে ইভ্যালির হেড অফিসে যোগাযোগ করতে পারবেন।

ইভ্যালির ব্যবস্থাপনায় আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে (চেয়ারম্যান) বোর্ড গঠন করে দেওয়া আদেশের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপিতে এমন নির্দেশনা আছে।গত ১৮ অক্টোবর বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দিয়েছিলেন। যেটির পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি বৃহস্পতিবার পাওয়া গেছে।

বোর্ডে থাকবেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সচিব মো. রেজাউল আহসান, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফখরুদ্দিন আহমেদ ও আইনজীবী খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ। আর সরকারি বেতনে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে থাকবেন অতিরিক্ত সচিব (ওএসডি) মাহবুব কবির।

এর আগে, ইভ্যালির দুই কর্ণধার কারাবন্দি থাকার প্রেক্ষাপটে নতুন একটি বোর্ড গঠনে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, অবসরপ্রাপ্ত সচিব, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট ও একজন আইনজীবীর সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন হাইকোর্ট। পরে সাবেক তিন সচিবের নাম আদালতে দাখিল করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলবে: সাকিব

 বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলবে: সাকিব

ওমানের বিপক্ষে ম্যাচ সেরা সাকিব আল হাসান

বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে হেরে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে মঙ্গলবার ওমানের বিপক্ষে ২৬ রানের জয় পায় টাইগাররা। এই জয়ের মাধ্যমে বিশকাপের মূলপর্বে খেলার আশা জিইয়ে রাখল বাংলাদেশ।

এদিকে, প্রথম ম্যাচে হারের কারণে বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপের মূলপর্বে যাওয়া নিয়ে সংশয় থাকলেও এখনও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ারও সুযোগ রয়েছে টাইগারদের।ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই বললেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

তিনি বলেন, “গ্রুপপর্বের বাধা কাটিয়ে বাংলাদেশের লক্ষ্য সেমিফাইনাল খেলা।”

সাকিব বলেন, “আমাদের কম্পিউটার অ্যানালিসিস্টের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বললেন- যে অবস্থায় আছে রান রেট, আমরা যদি পাপুয়া নিউ গিনির সঙ্গে মোটামুটি ভালো ব্যবধানে জিততে পারি, যেটা আমরা আশা করি জেতার, আর ওমান-স্কটল্যান্ডের ম্যাচে একটা দল অবশ্যই হারবে। তাতে রান রেটটা পিছিয়ে যাবে আর পাপুয়া নিউ গিনিকে হারালে আমাদের রান রেটটা বাড়বে। এখনও হয়তো আমাদের সম্ভাবনা আছে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাওয়ারও।”

দুই ম্যাচ শেষে দুই জয়ে স্কটল্যান্ডের ৪ পয়েন্ট ও ০.৫৭৫ রান রেট, এক জয়ে ওমানের ২ পয়েন্ট ও ০.৬১৩ রান রেট এবং এক জয়ে বাংলাদেশের ২ পয়েন্ট ও ০.৫০০ রান রেট। এই ম্যাচগুলো হওয়ার পর রানরেট, পয়েন্টে যে অদলবদল হবে সেই হিসাব কষেই সাকিব বলেছেন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা।

বিশ্ব রেকর্ডের অপেক্ষায় সাকিব

বিশ্ব রেকর্ডের অপেক্ষায় সাক

আরও একটি বিশ্ব রেকর্ডের অপেক্ষায় সাকিবফাইল ছবি

Google News

প্রতিটি সিরিজেই নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সাকিব আল হাসান। সামনে আরও বিশ্ব রেকর্ডের অপেক্ষায় এই তারকা ক্রিকেটার। জানা গেছে, শ্রীলংকার সাবেক তারকা পেসার লাসিথ মালিঙ্গাকে ছাড়িয়ে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারের বিশ্ব রেকর্ড গড়ার পথে রয়েছেন সাকিব।

মালিঙ্গা পেছনে ফেলতে সাকিব আল হাসানের প্রয়োজন আর মাত্র ৪ উইকেট। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজেই এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। বর্তমানে তিনি ৮৫ ম্যাচ খেলে ১০৪ উইকেট শিকার করে দ্বিতীয় পজিশনে আছেন। সাকিবের পরেই এক ম্যাচ কম খেলে ১০৭ উইকেট শিকার করে শীর্ষে আছেন লংকান কিংবদন্তি পেসার মালিঙ্গা। ৯৯ উইকেট শিকার করে তৃতীয় পজিশনে আছেন নিউজিল্যান্ডের তারকা পেসার টিম সাউদি। ৯৮ উইকেট শিকার করে চতুর্থ পজিশনে থেকে অবসরে গেছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদি।  

আফগানিস্তানের তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খান মাত্র ৫১ ম্যাচে ৯৫ উইকেট শিকার করে পঞ্চম পজিশনে রয়েছেন। বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে এ তালিকায় সাকিবের পরেই আছেন মোস্তাফিজুর রহমান। কাটার মাস্টার খ্যাত এই পেসার ইতোমধ্যে ৪৯ ম্যাচে ৭১ উইকেট শিকার করেছেন।

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)আরও একটি বিশ্ব রেকর্ডের অপেক্ষায় সাকিবফাইল ছবি

Google News

প্রতিটি সিরিজেই নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সাকিব আল হাসান। সামনে আরও বিশ্ব রেকর্ডের অপেক্ষায় এই তারকা ক্রিকেটার। জানা গেছে, শ্রীলংকার সাবেক তারকা পেসার লাসিথ মালিঙ্গাকে ছাড়িয়ে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারের বিশ্ব রেকর্ড গড়ার পথে রয়েছেন সাকিব।

মালিঙ্গা পেছনে ফেলতে সাকিব আল হাসানের প্রয়োজন আর মাত্র ৪ উইকেট। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজেই এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। বর্তমানে তিনি ৮৫ ম্যাচ খেলে ১০৪ উইকেট শিকার করে দ্বিতীয় পজিশনে আছেন। সাকিবের পরেই এক ম্যাচ কম খেলে ১০৭ উইকেট শিকার করে শীর্ষে আছেন লংকান কিংবদন্তি পেসার মালিঙ্গা। ৯৯ উইকেট শিকার করে তৃতীয় পজিশনে আছেন নিউজিল্যান্ডের তারকা পেসার টিম সাউদি। ৯৮ উইকেট শিকার করে চতুর্থ পজিশনে থেকে অবসরে গেছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদি।  

আফগানিস্তানের তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খান মাত্র ৫১ ম্যাচে ৯৫ উইকেট শিকার করে পঞ্চম পজিশনে রয়েছেন। বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে এ তালিকায় সাকিবের পরেই আছেন মোস্তাফিজুর রহমান। কাটার মাস্টার খ্যাত এই পেসার ইতোমধ্যে ৪৯ ম্যাচে ৭১ উইকেট শিকার করেছেন।

আমের উপকারিত

গ্রীষ্মের অন্যতম রসালো এই ফল পুষ্টিগুণে ভরপুর। যা শরীরের ভিটামিনের অভাব পূরণের পাশাপাশি কর্মশক্তি যোগায়।

মৌসুমি ফল আমের পুষ্টিগুণ সম্পর্ক বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ‘খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান’ বিভাগের প্রধান ফারাহ মাসুদা বলেন, “আম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন ও ক্যালরি।”

তিনি আরও জানান, উদ্ভিজ্জ উপাদান থেকে সরাসরি ভিটামিন পাওয়া যায় না, বিটা-ক্যারোটিন ভিটামিন এ‘র কাজ করে। এছাড়া রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি, যা শরীরে শক্তি তৈরি করে। আমের আয়রন, আঁশ, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি ও খনিজ উপাদান শরীর সুস্থ সবল রাখতে সাহায্য করে।

ক্যারোটিন চোখ সুস্থ রাখে, সর্দি-কাশি দূর করে। কাঁচাআমে ৯০ মাইক্রোগ্রাম এবং পাকাআমে ৮,৩০০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন থাকে।

আম কর্মশক্তি যোগায়। এতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচাআম ৪৪ কিলোক্যালোরি ও পাকাআমে ১০ ক্যালরি শক্তি প্রদান করে।

আরও আছে আয়রন যা অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করে। কাঁচাআমে ৫.৪ ও পাকাআমে ১.৩ মি.গ্রা আয়রন পাওয়া যায়। 

ক্যালসিয়াম হাড় সুগঠিত করে, হাড় ও দাঁতের সুস্থতা বজায় রাখে। কাঁচাআমে ১০ মি.গ্রা ও পাকাআমে ১৬ মি.গ্রা ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

আম থেকে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। ভিটামিন সি স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে। দাঁত, মাড়ি, ত্বক ও হাড়ের সুস্থতা রক্ষা করতেও সাহায্য করে ভিটামিন সি। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচাআমে ৬৩ মি.গ্রা ও পাকাআমে ৪১ মি.গ্রা ভিটামিন সি পাওয়া যায় বলে জানান ফারাহ মাসুদা।

আমে রয়েছে ভিটামিন বি-১ ও বি-২। কাঁচাআমে ০.০৪ মি.গ্রা ও পাকাআমে ০.১ মি.গ্রা ভিটামিন বি-১ পাওয়া যায়। কাঁচাআমে ০.০১ মি.গ্রা ও পাকাআমে ০.০৭ মি.গ্রা বি-২ রয়েছে।

বিভিন্ন খনিজ উপাদানের উৎসও আম। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা ও পাকা আমে ০.৫ গ্রাম খনিজ লবণ থাকে।

আমে কিছু পরিমাণে প্রোটিন ও ফ্যাট থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচাআমে ০.৭ গ্রাম প্রোটিন ও ০.২ গ্রাম ফ্যাট থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকাআমে ১ গ্রাম প্রোটিন ও ০.৭ গ্রাম ফ্যাট থাকে।

আমে রয়েছে শ্বেতসার। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচাআমে ১০.১ গ্রাম শ্বেতসার ও প্রতি ১০০ গ্রাম পাকাআমে ২০.০০ গ্রাম শ্বেতসার পাওয়া যায়।

আমে বিদ্যমান পটাশিয়াম রক্তস্বল্পতা দূর করে ও হৃদযন্ত্র সচল রাখতে সাহায্য করে। এই ফলের আঁশ, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ যা হজমে সহায়তা করে।

এছাড়াও ক্যারোটিন, আইসো-কেরোটিন, এস্ট্রাগ্যালিন, ফিসেটিন, গ্যালিক এসিড ইত্যাদি এনজাইম ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

আম কোলন ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার, রক্তস্বল্পতা ও প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।

আমের ভিটামিন সি ত্বকের লোমকূপ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে, যা ব্রণের ও ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে। তাছাড়া আম ত্বক উজ্জ্বল করতেও সাহায্য করে।

“পাকাআম আঁশসহ খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়”, বললেন ফারাহ মাসুদা। 

পাকাআম রক্তে কোলেস্টেরলের ক্ষতিকর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ঘামের কারণে শরীর থেকে সোডিয়াম বের হয়ে যায়। কাঁচাআম খেয়ে শরীরের সোডিয়ামের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।

কাঁচাআমের পেকটিন গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগের চিকিত্সায় অত্যন্ত উপকারী।

কাঁচাআমের ভিটামিন সি রক্তনালীসমূহের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করে এবং নতুন রক্ত কনিকা গঠনে সাহায্য করে। এতে করে যক্ষা, রক্তস্বল্পতা ও কলেরা রোগের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

গরমের কারণে হওয়া স্ট্রোকের সম্ভাবনা হ্রাসে কাঁচাআম ও জিরা বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই। যা ত্বক ও চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

আমের ভিটামিন সি এবং বিটা-ক্যারোটিন মানব দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

আম রূপ চর্চায় সহায়তা করে। রোদের পোড়াভাব কমাতে, ত্বকের দাগ দূর করতে ও ব্রণের সমস্যা দূর করতে আম সাহায্য করে।

মাসুদা বলেন, “রসালো ফল আম দেখতে যেমন সুন্দর খেতেও তেমন মিষ্টি। তাই এর প্রতি বরাবরই মানুষের আকর্ষণ বেশি। তবে ডায়াবেটিস রোগীর আম খাওয়ায় সতর্ক থাকা উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “পরিমিত পরিমাণ আম খেলে শরীরে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে। তবে অতিরিক্ত আম খাওয়া ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ক্ষতিকর।”

উপকারী ফল লিচু

ড্রাগন ম্যান: নতুন প্রজাতির মানবের সন্ধান, বাস করতো দেড় লাখ বছর আগে

২৬ জুন ২০২১

ড্রাগন ম্যান-এর মাথার খুলি।
ছবির ক্যাপশান,ড্রাগন ম্যান-এর মাথার খুলি।

চীনা গবেষকরা অত্যন্ত প্রাচীন একটি মাথার খুলির সন্ধান পেয়েছেন যা সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির মানবের বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের এই দলটি দাবি করছে মানব বিবর্তন প্রক্রিয়ায় নিয়েন্ডারথাল এবং হোমো ইরেকটাসের মতো এই প্রজাতির মানব আমাদের সবচেয়ে নিকটতম আত্মীয়।

এই মানব প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে ড্রাগন ম্যান।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই নমুনাটি এমন এক মানব গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছে যা অন্তত এক লাখ ৪৬ হাজার বছর আগে পূর্ব এশিয়ায় বসবাস করতো।

উত্তর-পূর্ব চীনের হারবিন শহরে এই খুলি পাওয়া গেছে ১৯৩৩ সালে, তবে খুব সম্প্রতি এটি বিজ্ঞানীদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

মাথার এই খুলির একটি বিশ্লেষণ সম্প্রতি ‘দ্য ইনোভেশন’ নামের একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

বলা হচ্ছে, নতুন এই আবিষ্কার – হোমো স্যাপিয়েন্সের কোথা থেকে ও কিভাবে উদ্ভব হয়েছিল সে সম্পর্কে বর্তমান ধারণা বদলে দিতে পারে।

মানব বিবর্তনের বিষয়ে যুক্তরাজ্যে শীর্ষস্থানীয় একজন বিজ্ঞানী ও গবেষক, লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের প্রফেসর ক্রিস স্ট্রিঙ্গার এই গবেষণা দলের একজন সদস্য ছিলেন।

বিবিসিকে তিনি বলেন, “বিগত সহস্রাব্দগুলোতে যেসব জীবাশ্ম পাওয়া গেছে, তার মধ্যে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি আবিষ্কার।”

“এটি মানবতার ভিন্ন একটি শাখা যা হোমো স্যাপিয়েন্স (আমাদের প্রজাতি) হওয়ার পথে ছিল না। তবে এটি এই অঞ্চলে কয়েক লাখ বছর ধরে বিবর্তিত হওয়া এক প্রজাতির প্রতিনিধিত্ব করে যা পরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে,” বলেন তিনি।

আরো পড়তে পারেন:

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই আবিষ্কারের ফলে মানব বিবর্তনের ইতিহাস নতুন করে লিখতে হতে পারে।

তাদের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এই প্রজাতির মানব নিয়েন্ডারথালের চেয়েও হোমো স্যাপিয়েন্সের অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ।

গবেষকরা বলছেন, এই নতুন প্রজাতির মানব হচ্ছে হোমো লোঙ্গি। এই লোঙ্গি শব্দটি এসেছে চীনা শব্দ “লং” থেকে যার অর্থ ড্রাগন।

চায়নিজ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস এবং শিজিয়াঝুয়াঙ প্রদেশে হেবেই জিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিজুন নি বলেন, এই আবিষ্কারের মাধ্যমে “আমরা বহু আগে হারিয়ে যাওয়া এক বংশধরকে আমরা খুঁজে পেয়েছি।”

দেখতে কেমন ছিল ড্রাগন ম্যান- শিল্পীর চোখে।
ছবির ক্যাপশান,দেখতে কেমন ছিল ড্রাগন ম্যান- শিল্পীর চোখে।

বিবিসিকে তিনি বলেন, “এটা যে এতো ভালোভাবে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে সেটা আমি বিশ্বাস করতে পারিনি। এই খুলির সবকিছু দেখা যাচ্ছে। এটা সত্যিই দারুণ এক আবিষ্কার!”

আমাদেরসহ অন্যান্য মানব প্রজাতির মাথার খুলির সঙ্গে তুলনা করলে এই খুলিটি আকারে বেশ বড়। তবে মস্তিষ্কের আকার প্রায় একই ধরনের।

বলা হচ্ছে, এই খুলিটি প্রাপ্তবয়স্ক এক পুরুষের।

খুলি দেখে বোঝা যায় ড্রাগন ম্যানের চোখের কোটর বিশাল ও চতুর্ভুজ আকৃতির, ভ্রুর খাঁজ বিশাল আকারের, প্রশস্ত মুখ এবং বড় আকারের দাঁত।

হেবেই জিও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কিয়াং জি বলেন, এখনও পর্যন্ত মানুষের মাথার খুলির যতো জীবাশ্ম পাওয়া গেছে, তার মধ্যে এটি সবচেয়ে সম্পূর্ণ।

“অন্যান্য সব মানব প্রজাতির চেয়ে এটি একেবারেই আলাদা,” বলেন তিনি।

বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, ড্রাগন ম্যান ছিল খুব শক্ত সামর্থ্য মানুষ এবং কর্কশ। তবে তারা কিভাবে ও কেমন করে বসবাস করতো সে বিষয়ে খুব কমই জানা গেছে। কারণ যে এলাকায় এই খুলিটি পাওয়া গিয়েছিল সেখান থেকে এটিকে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।

এর অর্থ এই খুলি যেখানে পাওয়া গিয়েছিল সেখানকার প্রত্নতাত্ত্বিক দিক সম্পর্কে কিছু জানা যায় নি। যেমন- সেখানে পাথরের তৈরি কী ধরনের হাতিয়ার ব্যবহার করা হতো এবং ওই এলাকায় সাংস্কৃতিক আরো কী ধরনের উপাদান ছিল সেসব বিষয় অজ্ঞাত রয়ে গেছে।

নতুন প্রজাতির মানবের এই খুলিটি পাওয়া গেছে ১৯৩৩ সালে। হারবিনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত সঙ্গুয়া নদীর উপর একটি সেতু তৈরির সময় একজন নির্মাণ শ্রমিক এর সন্ধান পান।

যে সময় এই খুলিটি পাওয়া যায় সে সময়ে এই শহরটি ছিল জাপানের অধীনে।

চীনা শ্রমিকটি মনে করেছিলেন, এই খুলির সাংস্কৃতিক মূল্য অনেক এবং একারণে তিনি এটিকে লুকিয়ে বাড়িতে নিয়ে যান যাতে খুলিটি জাপানিদের হাতে চলে না যায়।

মাথার খুলি
ছবির ক্যাপশান,যেভাবে মানব প্রজাতির বিবর্তন ঘটেছে – বাম থেকে ডানের মাথার খুলি দিয়ে বিজ্ঞানীরা সেটা দেখানোর চেষ্টা করেছেন।

নিজের বাড়ির কূপের একেবারে তলায় তিনি খুলিটি লুকিয়ে রাখেন। সেখানে এটি ছিল প্রায় ৮০ বছর। লোকটি মারা যাওয়ার আগে তার পরিবারের সদস্যদের এই খুলির কথা বলে যান এবং পরে তাদের মাধ্যমেই এটি বিজ্ঞানীদের হাতে এসে পৌঁছায়।

এর আগেও চীনে প্রাচীন কালের আরো কিছু মানব দেহাবশেষের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। ড্রাগন ম্যান এরকমই সবশেষ আবিষ্কার।

আগে যেসব জীবাশ্ম পাওয়া গেছে সেগুলোকে আলাদা করে শ্রেণীভূক্ত করা কঠিন ছিল।

এর আগে যেসব জীবাশ্ম পাওয়া গেছে সেগুলি দালি, জিন্নিওশান, হুয়ালংডং এবং তিব্বতীয় অঞ্চলের।

এসব দেহাবশেষ হোমো স্যাপিয়েন্স, নিয়েন্ডারথালস কিম্বা ডেনিসোভান্স অথবা একেবারেই ভিন্ন কোন প্রজাতির মানবের কীনা সে বিষয়ে তীব্র বিতর্ক হয়েছে।

রাশিয়ার ডেনিসোভা গুহায় ৩০/৫০ হাজার বছর পুরনো একটি আঙ্গুল পাওয়া গিয়েছিল। সেই আঙ্গুলের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে এই ডেনিসোভান্স প্রজাতি সম্পর্কে প্রথম ধারণা পাওয়া যায়।

৩৮ লাখ বছর আগের মাথার খুলিই কি মানুষের পূর্বপুরুষ?

কেন মাটি বিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর জাদুকরি বস্তু

মানুষ কী করে অন্য প্রাণীর দুধ খেতে শিখলো?

প্রথম পাতা

বিবর্তন ঘটছে মানুষের পায়ের পাতার আকারে

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মার্তা মিরাজন লাহর বিশ্বাস করেন এই ড্রাগন ম্যানই আসলে ডেনিসোভান।

“অতীতের সবচেয়ে রহস্যময় জনগোষ্ঠী এই ডেনিসোভান্স। তিব্বতীয় মালভূমিতে যে চোয়ালের হাড় পাওয়া গেছে তার ডিএনএ থেকে মনে হয় সেটিও ছিল একজন ডেনিসোভানের,” বলেন তিনি।

“আর এখন চোয়ালের হাড় যেহেতু তিব্বতের এবং ড্রাগন ম্যানকে একই রকমের বলে মনে হচ্ছে- আমরা হয়তো এই প্রথমবারের মতো ডেনিসোভানের মুখ পেয়ে গেলাম।”

সম্প্রতি ইসরায়েলেও নিয়েন্ডারথালের সম্ভাব্য পূর্বসূরির কিছু দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। ওই জীবাশ্মটি নিয়ে যারা গবেষণা করছেন তারা বলছেন, লেভান্ত অঞ্চলের প্রথম মানবগোষ্ঠী থেকে এই ড্রাগন ম্যানের আবির্ভাব ঘটতে পারে।

তবে চীনা গবেষকরা বলছেন, পূর্ব এশিয়ায় যেসব জীবাশ্ম পাওয়া গেছে সেগুলো শ্রেণীভুক্ত করা কঠিন, কিন্তু এসব জীবাশ্ম থেকে নতুন প্রজাতির মানবের ক্রমবিবর্তন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

প্রফেসর নি বলেন, “এই ফলাফল প্রচুর বিতর্কের জন্ম দিবে এবং আমি নিশ্চিত যে অনেকেই আমাদের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করবেন। তবেই এটাই বিজ্ঞান এবং এই মত-বিভেদের কারণেই বিজ্ঞান সামনের দিকে অগ্রসর হয়।”

                     পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লে সুস্থ থাকা যায় : মার্কিন গবেষণা

 

নামাজ বা সালাত হলো ইসলাম ধর্মের প্রধান উপাসনা কর্ম। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত (নির্দিষ্ট নামাজের নির্দিষ্ট সময়) নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক বা ফরজ। নামাজ ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি। ঈমান বা বিশ্বাসের পর নামাজই ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মুসলিমরা দিনে পাঁচবার নামাজ পড়ে। এর মাধ্যমে মূলত আল্লাহর একটি আদেশ পালন হয়। সেই সঙ্গে আল্লাহর সাথেও সাক্ষাত হয়। এই নামাজকে বলা হয় মুমিনের মেরাজ। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, তোমরা নামাজ শেষ করার পর দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে সব অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকো।

 

নামাজ নির্ধারিত সময়ে পড়ার জন্য মুমিনদের ওপর ফরজ করা হয়েছে। নামাজের এই বিধানটি মুসলমানদের জন্য অনেকভাবেই উপকারী। বিশেষভাবে নামাজ মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দেয়। যেই মানুসিক চাপগুলো আমাদের দৈনন্দিনের জীবনে তৈরি হয়। নামাজ বিশেষভাবে মহান আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। কেননা নামাজের মাধ্যমেই আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক বৃদ্ধি পায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিংহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা এটা প্রমাণ করেছে যে, দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার মাধ্যমে মানুষ স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও উপকৃত হতে পারে এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে পারে। গবেষকরা বলেছেন, নামাজের সময় শারীরিক যে ক্রিয়া হয়ে থাকে, এটা যদি নিয়মিতভাবে ও নির্ধারিত সময়ে হয় তবে অন্য সকল চিকিৎসা থেকে পিঠের ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে বেশি ভূমিকা পালন করবে এই নামাজ।

শারীরিক এই উপকার ছাড়াও নামাজ আল্লাহর সাথে মানুষের সম্পর্ক বৃদ্ধি করে। আর এই সম্পর্ক মানুষের আত্মাকে প্রশান্ত করে। নিয়মিত নামাজ শরীরের ওপর এই ঝিম প্রভাব, রক্তচাপ এবং হৃদস্পন্দন কমাতে পারে, পরিণামে পেশী শিথিল করতে সাহায্য করে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, তারাই এ ধরনের লোক যারা (এ নবীর দাওয়াত) গ্রহণ করেছে এবং আল্লাহর স্মরণে তাদের চিত্ত প্রশান্ত হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিংহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখিয়েছেন, যদি কেউ ঠিকমতো রুকু করতে পারে, তাহলে তার পিঠে কোনো ব্যথা থাকবে না। কেননা রুকুর সময়ই পিঠ সময় হয়ে থাকে। এই গবেষণায় মূলত নামাজ পড়লে শারীরিক যে উপকারগুলো হবে সেই বিষয়গুলোকেই বড় করে তুলে ধরা হয়েছে।

রুকু : নিচের পিঠ, উরু এবং ঘাড়ের পেশীগুলি সম্পূর্ণভাবে প্রসারিত করে। রক্ত শরীরের ওপরের অংশে প্রবাহিত হয়।

সিজদা : সিজদা দিলে হাড়ের জোড়ার নমনীয়তা বাড়ে। মাথা নামানোর সময় মস্তিকে রক্ত সঞ্চালন হলে রক্তচাপও কমে, এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। সিজদার পুনরাবৃত্তি: এই সিজদা শরীরিরে ভারসাম্য এনে দেয়।

এটা সত্য যে নামাজ শারীরিক উপকারের জন্য পড়তে হয়না। নামাজ পড়তে হয় মহান আল্লাহর আদেশ পালন করার জন্য। বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে যারা নিয়মিত নামাজ পড়ে থাকেন তারা শারীরিক অনেক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকেন। এবং তাদের রোগ ব্যাধির হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে।

 

 

আখেরাতের জীবন চিরস্থায়ী

নিজস্ব প্রতিবেদক

 
 
আখেরাতের জীবন চিরস্থায়ী

 
 

দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবন একই সঙ্গে মানুষের পরীক্ষার কালও। এ জীবনে যারা আল্লাহ ও রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশিত পথে চলবে তাদের আখেরাতের অফুরন্ত জীবনে জান্নাতদ্বারা পুরস্কৃত করা হবে। পক্ষান্তরে যারা ব্যর্থ হবে তাদের পেতে হবে জাহান্নামের শাস্তি। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষা- মানুষের মৃত্যুর পরমুহূর্ত যে অনন্ত জীবনের শুরু, যার কোনো শেষ নেই তাকেই আখেরাত বলে। আখেরাতের দুটি পর্যায়। ‘আলমে বরজখ’ অর্থাৎ মানুষের মৃত্যুর পর থেকে কেয়ামত পর্যন্ত লোকচক্ষুর অন্তরালে যে মধ্যবর্তী সময় রয়েছে তাকে ‘আলমে বরজখ’ বলা হয়।

আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে ‘কেয়ামত’ বা পুনরুত্থান বা বিচার দিবস। কেয়ামতের আরও একটি স্তর হচ্ছে বিচারের পর শেষ আবাসস্থল। পৃথিবী লয়ের মাধ্যমে আল্লাহ ছাড়া আর সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে। অতঃপর আল্লাহরই নির্দেশে এক নতুন জগৎ তৈরি হবে। প্রতিটি মানুষ পুনর্জীবন লাভ করে আল্লাহর দরবারে হাজির হবে। দুনিয়ার জীবনে সে ভালো-মন্দ যা কিছুই করেছে, তার হিসাব-নিকাশ সেদিন তাকে দিতে হবে আল্লাহর দরবারে। একে বলা হয়েছে বিচার দিবস। এ দিবসের একচ্ছত্র মালিক ও বিচারক স্বয়ং আল্লাহ। তাঁর সঙ্গে কেউ কথা বলার সাহস করবে না। তিনি যাকে অনুমতি দেবেন কেবল তিনিই সেদিন কঠিন মুহূর্তে সুপারিশ করতে পারবেন। আলমে বরজখ, কবর, হাশর, বিচারব্যবস্থা, পুলসিরাত পর্যায়ক্রমে শেষ হওয়ার পর সর্বশেষ পরিণতি জান্নাত বা জাহান্নাম। আর এটাই শেষ ঠিকানা। আখেরাতের জীবন সম্পর্কে আল কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘আর তোমরা সেদিনের ভয় কর যেদিন কেউ কারও সামান্য উপকারে আসবে না এবং তার পক্ষে কোনো সুপারিশও কবুল হবে না, কারও কাছ থেকে ক্ষতিপূরণও নেওয়া হবে না আর তারা কোনোরকম সাহায্যও পাবে না।’ সূরা বাকারা, আয়াত ৪৮।

আখেরাতের জীবনে প্রতিটি বান্দাকে তার স্রষ্টা আল্লাহর কাছে দুনিয়ার জীবনের জন্য জবাবদিহির সম্মুখীন হতে হবে। এ জবাবদিহিতে তারাই উতরে যাবে যারা দুনিয়ার জীবনে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রদর্শন করেছে। যারা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশিত পথে চলে আখেরাতের জীবনের মূলধন সঞ্চয় করেছে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে আখেরাতের জীবনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার তৌফিক দান করুন।লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক


Leave a Reply